Human Mind Power

ঈশ্বর উপলব্ধি এবং তার সারাংশ

God Realization and Its Essence

ইঁশ্বর, গড্, আঁল্লা, ভঁগবান এ সব বিভিন্ন নামে হলেও আসলে সবই কিন্ত একই করূনাময় পঁরমাত্মার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। আর আদি সচ্চিদানন্দ বা ব্রম্ভ থেকে আগত হয়েছেন পরম করূনাময় পরমাত্মা। সচ্চিদানন্দকে বিশ্লেষণে বলা হয়—সৎ-চিৎ-আনন্দ, সৎ অর্থাৎ সত্যি বা যা চির নিত্য, চিৎ অর্থাৎ চৈতন্য বা জ্ঞান ও. আনন্দ অর্থাৎ স্থায়ী সুখ বা সুখ
কাজে কাজেই সচ্চিদানন্দের অর্থ নিত্য জ্ঞান আনন্দ স্বরূপ ব্রম্ভ।

মনুষ্য জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য ইঁশ্বর দর্শন। ইঁশ্বর কি ? এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তরের সাথে সাথে তাই ওঁনার দর্শনের কথা চালু হয়। ইঁশ্বর আর তাঁরও আগে ব্রম্ভ ( নির্গুন, নিরাকার ) পরে সগুন ব্রম্ভ । চিরাচরিত ভাবে ব্রম্ভ হল বাক্য মনের অতীত অর্থাৎ বর্ননাতীত। ব্রম্ভের দুটো অন্তিম সত্য, পুরুষ ( স্থায়ী শক্তি যা অব্যবহৃত ও প্রকৃতি ( প্রকাশিত, ব্যবহৃত শক্তি )। মহাসৃষ্টি যা কিছু দেখছি, শুনছি, বলছি, বুঝছি বা পড়ছি সবই ব্রম্ভজাত বা মায়া ( যা শুধু এখনই আছে মাত্র কিন্তু আগেও ছিল না আর পরেও থাকবে না )। ব্রম্ভজাত মহাসৃষ্টি ( সারা বিশ্ব ব্রম্ভান্ড,জীব,নির্জীব ইত্যাদি ) ছাড়া আর যা অতি মহান পরম করুনাময় তিঁনিই হলেন পরমাত্মা (আর একই পঁরমাত্মা প্রতিটি জীবের মধ্যেই জীবাত্মা রূপেও বর্তমান)।
অতএব ইঁশ্বরই সব, ওঁনার থেকেই সব কিছুর উৎপত্তি আর উঁনিই সবার ভিতরে এবং বাহিরেও। সবকিছুই ব্রম্ভজাত এবং সবকিছুরই ব্রম্ভতেই লয়। বলতে গেলে এই বিশ্বের প্রত্যেক উপাদানের প্রতিটি কনাতেই ইঁশ্বরের অস্তিত্ব প্রতীয়মান। উপরে বর্নিত পুরো ব্যাপারটি থেকে ধ্রুব সত্য এই যে ওঁনার ঊপলব্ধি সর্বদাই,সর্বত্রই এবং সর্ব জিনিসেই এতো বেশী প্রতিভাত যে শুদ্ধতার উৎকর্ষে ও পরিমানের ভিত্তিতে উঁনিই সর্ব চৈতন্যময়। ওঁনাকে অবজ্ঞার তো কোন প্রশ্নই নেই, বরং ওঁনারি চেতনাবোধে মনুষ্যমন যখন হয় চৈতন্যময় তখন পার্থিব সব অর্জনকে অতি তুচ্ছ ভেবে ( তা সেটি ব্যক্তিত্ব, উন্নতি, সুখ/শান্তি, সম্পদ, সুসম্পর্ক গঠন ইত্যাদির যা কিছুই হোক না কেন ) সরল অন্তকরনে কেবল ওঁনারি গুন কীর্তনে নিজেকে প্রযুক্ত রেখে নিজেকে পৌঁছে দেওয়া যায় আধ্যাত্মিকতাবাদের চরম শিখরে।
সোজা কথাতে মানুষটি হয়ে ওঠেন স্থিতপ্রজ্ঞ ও ব্রম্ভ জ্ঞানী। উচ্চাসনে অবস্থিত পবিত্র মানুষটি হয়ে ওঠেন ষড় রিপু জয়ী ও অষ্টপাশার অশুভ প্রভাব থেকেও মুক্ত। বলতে গেল মোঁক্ষ লাভেও সক্ষম, যদি শুধু মাত্র ওঁনার কৃপা বর্ষন আসে। যতক্ষন তা না হয় ততক্ষন ভেবে নিতে হবে যে পরম করূনাময় যেন তাঁকে লোক শীক্ষার্থে নিযুক্ত রেখেছেন।
সর্বোপরি মানুষটি হয়ে ওঠেন জীতেন্দ্রিয়। তাই পার্থিব কামনা,বাসনা,যৌন লালসা,লজ্জা, ঘৃনা,ভয়,অহংকার ইত্যাদির কোন অশুভ প্রভাবও এ হেন মানুষটিকে ম্লান করতে পারে না।
উঁনিই দ্রষ্টা, উঁনিই দৃশ্য, দর্শনে উঁনি সদাই স্পষ্ট, মন মধ্যে শুদ্ধ চেতনা শুধু ওঁনারি কৃপাতে সৃষ্ট।
অতি সহজেই যা পরিস্কার তা হ’ল এই যে, উঁনিই প্রাথমিক ভাবে সর্বজ্ঞ কিন্তু উঁনি কোন ভাবেই ওঁনার সৃষ্ট জীবদের বন্চিত রাখতে চান নি সেই সমস্ত ক্ষমতা থেকে। তাই তো জীবে জীবে আছে ইন্দ্রিয় ও আছে অন্তকরণেরর অবস্থিতিও। অন্তকরণ সংযুক্ত ইন্দ্রিয়গুলোতে পবিত্রতা সর্বদা বজায় থাকলে ব্রম্ভের শুদ্ধতাএবং তাঁর সর্ব সৃষ্টিকে উপলব্ধি করার কোন অসুবিধেই থাকে না।
ইঁশ্বর দর্শন প্রবণতার শেষ অংশটি
বি: দ্র:-ইঁশ্বর দর্শনের ( অর্থাৎ ব্রম্ভ জ্ঞান অর্জনের ) প্রধান চাবিকাঠি—এক কথায় কার্যকরী মননিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া যার পর্যায়গুলো হ’ল- ১. মন অধ্যয়ন, ২. মনের শুদ্ধিকরণ ও সেই শুদ্ধতার নিয়ত প্রতিরক্ষণ, ৩. পরে সেই অধ্যয়ন অর্জিত শুদ্ধ মনটির কর্মজীবনে নিয়ত প্রয়োগ, আর এর থেকেই আসে সর্ব নির্জীবে ও জীবে প্রকাশিত শুদ্ধ চেতনার অভিজ্ঞতা অর্জনের সক্ষমতা, যা নিয়ে আসে প্রক্রিয়ায় লিপ্ত মানুষটির মুখমন্ডলে শুদ্ধ চেতনারই এক অপরূপ আলোকশ্রী।
এই স্থিতিটির অধিকারী কে বলা হয় স্থিতপ্রজ্ঞ ( A very wise man with a steadfast mind)/ ব্রম্ভ জ্ঞানী ), ইঁনিই সর্ব বিজয়ী হয়েও সর্ব ত্যাগী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *